১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের বরাদ্দপত্র পেয়েছে গ্রামীণফোন

বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেড বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ পেয়েছে।

বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেড বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে প্রথমবারের মতো ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ১০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম বরাদ্দ পেয়েছে। বরাদ্দটি এ বছরের ১ জুন থেকে কার্যকর হবে এবং এর মেয়াদ থাকবে ২০৩৯ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসারে, বরাদ্দকৃত স্পেকট্রামের জন্য ভ্যাটসহ মোট ২ হাজার ১৭০ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬০২ টাকা পরিশোধ করবে গ্রামীণফোন। এ অর্থ কোম্পানিটি আগামী ১০ বছরে সমান কিস্তিতে পরিশোধ করবে, যেখানে প্রতিটি কিস্তির পরিমাণ হবে ভ্যাটসহ ২১৭ কোটি ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩৬০ টাকা।

৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রামের লো-ব্যান্ড বৈশিষ্ট্যের কারণে তুলনামূলক কম বেস স্টেশন ব্যবহার করেও বিস্তৃত এলাকায় নেটওয়ার্ক কভারেজ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ফলে দ্রুত ও ব্যয়সাশ্রয়ীভাবে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা যাবে। এ স্পেকট্রাম ব্যবহারে ভবনের ভেতরে সিগন্যাল প্রবেশ সক্ষমতা বাড়বে, ফলে ঘনবসতিপূর্ণ শহরাঞ্চলে গ্রাহকরা আরো স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য সংযোগ পাবেন। পাশাপাশি দেশের গ্রামীণ, উপকূলীয় ও দুর্গম অঞ্চলেও মোবাইল নেটওয়ার্ক কাভারেজ উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হবে।

আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১১০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ ও ১০৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে গ্রামীণফোনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২১ টাকা ৯০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৪৯ পয়সায়।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ।

এর মধ্যে ১৭০ শতাংশ চূড়ান্ত ও ১৬০ শতাংশ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে গ্রামীণফোনের ইপিএস হয়েছে ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৭ টাকা ৯৫ পয়সায়।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১২৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে গ্রামীণফোনের ইপিএস হয়েছে ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২২ টাকা ২৯ পয়সায়। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৩৯ পয়সায়।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ২২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এর মধ্যে ৯৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ ও ১২৫ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে গ্রামীণফোনের ইপিএস হয়েছে ২২ টাকা ২৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৫ টাকা ২৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ২২ পয়সায়।

গ্রামীণফোনের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল)।

২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গ্রামীণফোনের অনুমোদিত মূলধন ৪ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪ হাজার ৩১৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৩ লাখ ২২। এর ৯০ শতাংশই রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৬৩, বিদেশি বিনিয়োগকারী দশমিক ৮০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও